ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলার অভিযোগ, কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণ
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে—এমন দাবি করেছেন হোয়াইট হাউসের একাধিক কর্মকর্তা।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন পুরোপুরি অবগত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একই সময়ে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে। এসব ঘটনার তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে দেশটির ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটলো, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে গত তিন মাস ধরে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নৌযানে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।















