সর্বশেষ
গাইবান্ধার খাদ্য গুদামে চরম অব্যবস্থা: নেই মেইন গেট, নিরাপত্তাহীনতায় ঝুঁকিতে সরকারি মজুত প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাবেন আজ কন্দর্পপুরে পার্থেনিয়াম আগাছা প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি লালমনিরহাটে উজ্জল মিয়ার হত্যার বিচার ও প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কবিতা— অর্ধাঙ্গিনী কবি—এম, এইচ রশিদ নরোত্তমপুরে ফেক আইডি ও অপপ্রচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক। যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি গাইবান্ধায় জমি দখল নিয়ে নৃশংস হামলা: নারীসহ আহত ৩, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বেনাপোলের সাংবাদিক বাংলা টিভির প্রতিনিধি সেন্টু’র ওপর সন্ত্রাসী হামলা

‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’—প্রেরণার সেই গান গেয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল মৌসুমী চৌধুরীকে

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে কয়েকটি প্রতিবাদী গান মানুষকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’। এই গানটি গেয়ে লাখো মানুষের মনে আলোড়ন তুলেছিলেন সংগীতশিল্পী মৌসুমী চৌধুরী। তবে গানটির রাজনৈতিক বার্তার কারণে তাকে নিতে হয়েছিল বড় ঝুঁকি—এমনকি এক পর্যায়ে তাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল।

এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী বলেন, “গানটি রেকর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। লিখেছেন আমার গুরু ইথুন বাবু। রাজশাহীতে বিএনপির এক সমাবেশে প্রথম গানটি গাই। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় গানটি পরিবেশন করি। গানটির রাজনৈতিক বক্তব্য ফ্যাসিস্ট সরকারের বিপক্ষে হওয়ায়, আমার ওপর হুমকি-ধমকি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাসা বদল করতে হয়, এমনকি গ্রামের বাড়ি থেকেও হুমকি আসে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি সময় আমাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।”

তবে সেই ভয়ঙ্কর সময় এখন কিছুটা পেছনে ফেলেছেন মৌসুমী। তিনি বলেন, “আমি বলব, এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। আরও ভালো থাকতে চাই।”

মৌসুমী আরও জানান, ১৬ জুলাই শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি খুব মর্মাহত হন। “তখন পল্টনে আন্দোলন করছিলাম। একদিন যমুনা ফিউচার পার্কে যাই, দেখি আন্দোলনে আমার গান গাওয়া হচ্ছে। শুনে খুব ভালো লেগেছিল,” বলেন তিনি।

তিনি জানান, ৩ আগস্ট রাতেও রামপুরায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, সেখানে ‘ক্ষমতা এন্টারপ্রাইজ’ নামে নতুন একটি গান প্রকাশ করেন। আর ৫ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে ‘আনন্দের একটি সংবাদ’ পেয়েই মিছিলে বেরিয়ে পড়েন।

সাম্প্রতিক সময়ের নানা সংঘাত-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মৌসুমী চৌধুরী গেয়েছেন আরও একটি নতুন প্রতিবাদী গান—‘এ যুদ্ধ কবে হবে শেষ’। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা গানটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’—প্রেরণার সেই গান গেয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল মৌসুমী চৌধুরীকে

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে কয়েকটি প্রতিবাদী গান মানুষকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’। এই গানটি গেয়ে লাখো মানুষের মনে আলোড়ন তুলেছিলেন সংগীতশিল্পী মৌসুমী চৌধুরী। তবে গানটির রাজনৈতিক বার্তার কারণে তাকে নিতে হয়েছিল বড় ঝুঁকি—এমনকি এক পর্যায়ে তাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল।

এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী বলেন, “গানটি রেকর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। লিখেছেন আমার গুরু ইথুন বাবু। রাজশাহীতে বিএনপির এক সমাবেশে প্রথম গানটি গাই। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় গানটি পরিবেশন করি। গানটির রাজনৈতিক বক্তব্য ফ্যাসিস্ট সরকারের বিপক্ষে হওয়ায়, আমার ওপর হুমকি-ধমকি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাসা বদল করতে হয়, এমনকি গ্রামের বাড়ি থেকেও হুমকি আসে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি সময় আমাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।”

তবে সেই ভয়ঙ্কর সময় এখন কিছুটা পেছনে ফেলেছেন মৌসুমী। তিনি বলেন, “আমি বলব, এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। আরও ভালো থাকতে চাই।”

মৌসুমী আরও জানান, ১৬ জুলাই শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি খুব মর্মাহত হন। “তখন পল্টনে আন্দোলন করছিলাম। একদিন যমুনা ফিউচার পার্কে যাই, দেখি আন্দোলনে আমার গান গাওয়া হচ্ছে। শুনে খুব ভালো লেগেছিল,” বলেন তিনি।

তিনি জানান, ৩ আগস্ট রাতেও রামপুরায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, সেখানে ‘ক্ষমতা এন্টারপ্রাইজ’ নামে নতুন একটি গান প্রকাশ করেন। আর ৫ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে ‘আনন্দের একটি সংবাদ’ পেয়েই মিছিলে বেরিয়ে পড়েন।

সাম্প্রতিক সময়ের নানা সংঘাত-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মৌসুমী চৌধুরী গেয়েছেন আরও একটি নতুন প্রতিবাদী গান—‘এ যুদ্ধ কবে হবে শেষ’। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা গানটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।