সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

আমের আঁটি ফেলবেন না! জানুন এর ১০টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে


আম খেতে আমরা সবাই ভালোবাসি। রসালো এই ফলটি খাওয়ার পর আঁটিটি আমরা নির্দ্বিধায় ফেলে দিই। কিন্তু জানলে অবাক হবেন—আমের আঁটি কোনোভাবেই ফেলনা জিনিস নয়। এতে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টিগুণ ও ওষধি গুণাবলি, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম আমের আঁটিতে রয়েছে ৬ গ্রাম প্রোটিন, ২০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ৩২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২। এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নানা শারীরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আমের আঁটির অসাধারণ ১০টি উপকারিতা—

১. খুশকির প্রতিকার ও চুলের যত্নে

এক চিমটি আমের আঁটির গুঁড়ার সঙ্গে ২–৩ চামচ সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে মালিশ করুন। এটি চুল উজ্জ্বল করে তোলে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।

২. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে

যেখানে আম খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, সেখানে আমের আঁটি বা বীজ ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।

৩. শুষ্ক ত্বকের যত্নে

আমের আঁটির গুঁড়া ও সরিষার তেলের মিশ্রণ ত্বকে মালিশ করলে তা শুষ্কতা দূর করে ত্বককে করে তোলে মসৃণ ও উজ্জ্বল।

৪. দাঁতের পরিচর্যায়

ঝকঝকে দাঁত ও সুস্থ মাড়ির জন্য আমের আঁটির গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে ভালো ফল মেলে। এটি প্রাকৃতিক টুথপাউডারের মতো কাজ করে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে ও মেদ কমাতে

যাদের ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তারা আমের বীজের নির্যাস খেতে পারেন। এটি ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।

৬. জ্বালাপোড়া ও ব্যথা উপশমে

পিঁপড়া, মৌমাছি বা অন্য কোনো পোকার কামড়ে জ্বালাপোড়া হলে আক্রান্ত স্থানে আমের আঁটির গুঁড়া লাগালে ব্যথা ও জ্বালা অনেকটাই কমে যায়।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে

আমের আঁটির গুঁড়া খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় কার্যকর

আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়া করে তা পানি মিশিয়ে খেলে ক্রনিক ডায়রিয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৯. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

আমের বীজ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

১০. প্রাকৃতিক পুষ্টির ভাণ্ডার

প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দেহের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উপসংহার:
এতসব গুণ থাকার পরও আমের আঁটিকে ফেলে দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং তা শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করুন, আর নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে ব্যবহার করুন।

নোট: যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমের আঁটি ফেলবেন না! জানুন এর ১০টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপডেট সময় : ০৭:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫


আম খেতে আমরা সবাই ভালোবাসি। রসালো এই ফলটি খাওয়ার পর আঁটিটি আমরা নির্দ্বিধায় ফেলে দিই। কিন্তু জানলে অবাক হবেন—আমের আঁটি কোনোভাবেই ফেলনা জিনিস নয়। এতে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টিগুণ ও ওষধি গুণাবলি, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম আমের আঁটিতে রয়েছে ৬ গ্রাম প্রোটিন, ২০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ৩২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২। এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নানা শারীরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আমের আঁটির অসাধারণ ১০টি উপকারিতা—

১. খুশকির প্রতিকার ও চুলের যত্নে

এক চিমটি আমের আঁটির গুঁড়ার সঙ্গে ২–৩ চামচ সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে মালিশ করুন। এটি চুল উজ্জ্বল করে তোলে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।

২. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে

যেখানে আম খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, সেখানে আমের আঁটি বা বীজ ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।

৩. শুষ্ক ত্বকের যত্নে

আমের আঁটির গুঁড়া ও সরিষার তেলের মিশ্রণ ত্বকে মালিশ করলে তা শুষ্কতা দূর করে ত্বককে করে তোলে মসৃণ ও উজ্জ্বল।

৪. দাঁতের পরিচর্যায়

ঝকঝকে দাঁত ও সুস্থ মাড়ির জন্য আমের আঁটির গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে ভালো ফল মেলে। এটি প্রাকৃতিক টুথপাউডারের মতো কাজ করে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে ও মেদ কমাতে

যাদের ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তারা আমের বীজের নির্যাস খেতে পারেন। এটি ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।

৬. জ্বালাপোড়া ও ব্যথা উপশমে

পিঁপড়া, মৌমাছি বা অন্য কোনো পোকার কামড়ে জ্বালাপোড়া হলে আক্রান্ত স্থানে আমের আঁটির গুঁড়া লাগালে ব্যথা ও জ্বালা অনেকটাই কমে যায়।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে

আমের আঁটির গুঁড়া খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় কার্যকর

আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়া করে তা পানি মিশিয়ে খেলে ক্রনিক ডায়রিয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৯. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

আমের বীজ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

১০. প্রাকৃতিক পুষ্টির ভাণ্ডার

প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দেহের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উপসংহার:
এতসব গুণ থাকার পরও আমের আঁটিকে ফেলে দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং তা শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করুন, আর নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে ব্যবহার করুন।

নোট: যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।